ইসলামে অন্যের প্রতি কুধারণা পোষণ, দোষ খুঁজে বেড়ানো ও গিবত করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব কাজ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি পাপের কারণ হতে পারে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কুধারণা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, বেশি ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো। কারণ কোনো কোনো ধারণা ও অনুমান গুনাহ। অন্যের দোষ অন্বেষণ করো না। আর তোমাদের কেউ যেন কারও গিবত না করে।’
আয়াতটিতে মানুষের প্রতি অমূলক ধারণা পোষণ, অন্যের দোষ অনুসন্ধান এবং গিবত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এসব আচরণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, বিদ্বেষ ও সম্পর্কের অবনতির কারণ হতে পারে।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ৭৮-৭৯ নম্বর আয়াতেও অনুমাননির্ভর বক্তব্য ও ভিত্তিহীন দাবির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে আল্লাহর নামে মনগড়া কথা প্রচার করে সামান্য স্বার্থ লাভের পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।
হাদিসেও কুধারণা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ এসেছে। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কুধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকবে।’ (হাদিসের বর্ণনা)
ইসলামি শিক্ষায় অন্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা, সত্যতা যাচাই এবং অমূলক সন্দেহ পরিহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই কারও সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া নেতিবাচক ধারণা পোষণ না করে ন্যায়সংগত ও ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার শিক্ষা দেয় ইসলাম।
লেখক: মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন
খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা
মন্তব্য করুন