Advertisement
রবিবার, 04 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

নেক আমলের গুরুত্ব

নেক আমলের গুরুত্ব
News Banner

নেক আমল মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। তবে শুধু ভালো কাজ করাই যথেষ্ট নয়, সেই কাজের পেছনে থাকতে হবে বিশুদ্ধ নিয়ত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করা আমলই প্রকৃত নেক আমল। মানুষের প্রশংসা বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে কোনো ইবাদত করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি। আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দিই এবং আখিরাতে তার জন্য কোনো অংশই থাকবে না।’ (সুরা শুরা : ২০)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যে দুনিয়া চায়, আমি সেখানে তাকে দ্রুত দিয়ে দিই, যা আমি চাই, যার জন্য চাই। তারপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়। আর যে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে মুমিন অবস্থায়, তাদের চেষ্টা হবে পুরস্কারযোগ্য।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১৮-১৯)

নিয়তের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার করা হবে, তাদের মধ্যে এমন একজন থাকবে, যে যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল। আল্লাহ তাকে তাঁর দেওয়া নিয়ামতগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সে সেগুলো স্বীকার করবে এবং বলবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সে যুদ্ধ করেছে।

কিন্তু আল্লাহ বলবেন, সে সত্য বলছে না। বরং মানুষ যেন তাকে বীর বলে, সে উদ্দেশ্যেই সে যুদ্ধ করেছিল। দুনিয়াতে তাকে সেই প্রশংসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

এরপর এমন একজন ব্যক্তির বিচার হবে, যে জ্ঞান অর্জন করেছে, অন্যদের তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন অধ্যয়ন করেছে। সেও দাবি করবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এসব কাজ করেছে। কিন্তু আল্লাহ বলবেন, সে মানুষের কাছে জ্ঞানী ও কোরআনের কারি হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য এসব করেছিল। দুনিয়াতে তাকে সেই পরিচিতিও দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

হাদিসের এই সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যায়, কোনো আমলের বাহ্যিক রূপ যত বড়ই হোক না কেন, নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তাই নামাজ, রোজা, দান-সদকা, জ্ঞানচর্চা কিংবা যেকোনো ভালো কাজের ক্ষেত্রে নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা জরুরি।

নেক আমলের প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মানুষের প্রশংসা, সামাজিক মর্যাদা কিংবা দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য করা কোনো কাজকে নেক আমল হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। তাই প্রতিটি ভালো কাজের আগে নিজের নিয়ত যাচাই করা এবং আমল শেষে আত্মতুষ্টি ও লোকদেখানো থেকে নিজেকে দূরে রাখা প্রয়োজন।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা ছোট একটি আমলও মূল্যবান হতে পারে। বিপরীতে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা বড় কোনো আমলও পরকালে কোনো উপকারে নাও আসতে পারে। তাই মুমিনের জীবনে নেক আমলের পাশাপাশি বিশুদ্ধ নিয়তের গুরুত্বও অপরিসীম।

লেখক : মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন, খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 2 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 305 টি

মন্তব্য করুন