শেরপুরে জেলা কৃষকদলের সাবেক সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চুর ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর সন্তানেরা। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত বাচ্চুর ছেলে মোকারুল ইসলাম মহন এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে মোকারুল ইসলাম মহন অভিযোগ করেন, ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চুকে শেরপুরের সজবরখিলা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তৎকালীন পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর দাবি, তখন তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না।
মহনের অভিযোগ, বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁর বাবাকে মারধর করেন। পরে ভোরের দিকে বাড়ির সামনে তাঁর বাবার মরদেহ রেখে যাওয়া হয়। পরদিন পুলিশ পাহারায় তাঁর বাবার দাফন সম্পন্ন হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মহনের ভাষ্য, ঘটনার পর মামলা করার উদ্যোগ নিলে তাঁদের পরিবারের ওপর নেমে আসে হুমকি ও নির্যাতন। তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয় এবং তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই সময় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের হুমকির কারণে তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলেও দাবি তাঁর।
মহন বলেন, ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় ২০২৫ সালের ২৯ জুন সিআর আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন তিনি। পরে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
তিনি জানান, প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৪ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। ওই প্রতিবেদনে তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তাঁরা জানতে পারেন।
তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে মহন বলেন, পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিকভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে পারেননি। ঊর্ধ্বতন মহলের তদবিরের কারণে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন বলে জানান মহন।
মহনের দাবি, ওই পিবিআই কর্মকর্তার বক্তব্যের অডিও-ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে মামলাটির মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইয়ের শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “ওই মামলার তদন্ত শেষে ইতিমধ্যে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে নিহত আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঘটনার পুনঃতদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন