Advertisement
শুক্রবার, 25 সেপ্টেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
‘আম্মু, বুকটা খুব ব্যথা করে’- বাঁচতে চায় আফরিন শেরপুরে ১৮১ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, সিসি ক্যামেরার আহ্বান শেরপুরে কবীর-লালনের ভাবসংগীত উৎসব: গানে গানে মানবতার বার্তা কোটি টাকার কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক-৩ শ্রীবরদী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪ ভারতীয় গরু আটক ঝরে পড়া রোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শ্রীবরদীতে ডপসের মাঠ বৈঠক বিয়ে ঠেকাতে নিজেই ইউএনও অফিসে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী: পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন নালিতাবাড়ী যোগানিয়া ইউপির প্রশাসনিক দায়িত্বে মৎস্য কর্মকর্তা দুর্গাপূজা ঘিরে শেরপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা শ্রীবরদী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ

বিয়ে ঠেকাতে নিজেই ইউএনও অফিসে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী: পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন

বিয়ে ঠেকাতে নিজেই ইউএনও অফিসে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী: পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন
News Banner

বিয়ের বয়স হয়নি, তাই বিয়ে করতে চায় না ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। তার স্বপ্ন পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করা, হতে চায় পুলিশ। কিন্তু পরিবার যখন বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাহস করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির হয় সে।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওই শিক্ষার্থী প্রথমে থানায় যায়। পরে সেখান থেকে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে নিজের কথা খুলে বলে। তার বাড়ি উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষার্থী আগে কখনো ইউএনও কার্যালয় চিনত না। প্রথমে থানায় যাওয়ার পর পরে তার কার্যালয়ে আসে। সেখানে মেয়েটির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হলেও তার চিন্তাভাবনা ও কথা বলার ধরন ইউএনওকে মুগ্ধ করে।

পরে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ডেকে বিষয়টি জানানো হয়। আলোচনার পর পরিবার মেয়েটির বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।

শুধু বিয়ে ঠেকানোতেই থেমে থাকেনি উপজেলা প্রশাসন। মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তাকে নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় বই, স্কুলব্যাগ ও পোশাক দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ওই শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করবে। তিনি বদলি হয়ে গেলেও মেয়েটির পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সে ব্যবস্থা করে যাবেন।

শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীর বাবা নেই। তাদের কোনো জায়গা-জমিও নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক সংকট থাকলেও মেয়েটির পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তিনিও সহযোগিতা করবেন। তার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

অভাব-অনটনের মধ্যেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর এমন দৃঢ় অবস্থান এবং প্রশাসনের সহযোগিতা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 67 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 179 টি

মন্তব্য করুন