খুলনার ডুমুরিয়ায় চলতি মৌসুমে শিমের বাম্পার ফলনে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে ক্ষেতজুড়ে শিমের ভালো ফলন হয়েছে। এর সঙ্গে বাজারে সন্তোষজনক দাম থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।
উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের কৃষক শেখ মাহাবুর রহমান এবার এক বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে শিমের আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি বেশ খুশি।
শেখ মাহাবুর রহমান বলেন, ‘এবার এক বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে শিমের আবাদ করেছি। শুরুতে আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। তবে সঠিক পরিচর্যা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারেও শিমের চাহিদা ভালো। আশা করছি, উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে দ্বিগুণ লাভ করতে পারব।’
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এবার শিমের আবাদ বেড়েছে। কৃষকদের বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে জৈব বালাইনাশক এবং সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা ফ্লাটের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বলেন, ‘টিপনা গ্রামসহ পুরো খর্নিয়া ইউনিয়নে বিষমুক্ত ও গুণগত মানের শিম উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। পোকা দমনে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের জন্য মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ডুমুরিয়া উপজেলার উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিপিও) আলী হাসান বলেন, ‘শিমের রোগবালাই প্রতিরোধে কৃষকদের আগাম সচেতন করা হয়েছিল। এবার রোগের তেমন আক্রমণ না থাকায় এবং সময়মতো সুষম সার ব্যবহারের ফলে ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে।’
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘ডুমুরিয়া অঞ্চলটি সবজি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের শিম চাষ হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ডুমুরিয়ার শিম এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে বাণিজ্যিক সবজি চাষে ডুমুরিয়া মডেল হিসেবে কাজ করছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করছি। চলতি মৌসুমে শিম চাষিদের এই সাফল্য অন্য কৃষকদেরও আধুনিক সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করবে।’
এদিকে শিমের মৌসুম শুরু হওয়ায় ডুমুরিয়ার পাইকারি হাটগুলোতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। প্রতিদিন ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে শিম নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকেরা। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা ও দাম সন্তোষজনক থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন চাষিরা।
ফলন ও বাজারদর—দুই দিকেই অনুকূল পরিস্থিতি থাকায় চলতি মৌসুমে শিম চাষে লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশায় ডুমুরিয়ার কৃষকদের মুখে এখন হাসি।
মন্তব্য করুন