নারীর স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ৫০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, জটিল রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে এন্ডোমেট্রিওসিস-এডেনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশের তৃতীয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের লাখ লাখ নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও ক্রমবর্ধমান জটিল রোগে ভুগছেন। কিন্তু সামাজিক ট্যাবু ও সচেতনতার অভাবে তাঁদের বড় একটি অংশই রোগ শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তিনি জানান, সরকার ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। তাঁদের জন্য সহজ ও কার্যকর প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে নারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এসব স্বাস্থ্যকর্মী সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত ও সঠিক রেফারেল নিশ্চিত করতে পারবেন।
বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যার কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্কের অভাব। উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোকে দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে আধুনিকায়ন করা গেলে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ নিজ নিজ এলাকায় যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও হেলথ প্রমোশনকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
চিকিৎসা গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক থাকলেও কাজের চাপ ও প্রয়োজনীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতায় আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হচ্ছে না। তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে সরকার সহযোগিতা করবে। সুনির্দিষ্ট ও মানসম্মত গবেষণা প্রস্তাব নিয়ে এলে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
নারীদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার নারী মারা যান। এ মৃত্যুহার কমাতে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এশিয়ান সোসাইটি অব এন্ডোমেট্রিওসিস অ্যান্ড এডেনোমায়োসিসের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন