Advertisement
সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
নালিতাবাড়ীতে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু শেরপুরে সেই বৃদ্ধ দম্পতির দায়িত্ব নিলেন এমপি ডা: প্রিয়াঙ্কা শেরপুরে তিন ভাইকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় তিন আসামির কারাদণ্ড শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও শাটডাউন কর্মসূচি শেরপুরে ৫৩তম জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, চ্যাম্পিয়ন যারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স, আহত-২ কানাডা থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বিবিসিসিকে সহযোগিতার আশ্বাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবিএ নেতৃবৃন্দের বৈঠক তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংকট ও বাংলাদেশ: ড. হাসান নাশিদ শেরপুরে হোমিও চিকিৎসকদের নিয়ে ডাক্তার কনফারেন্স ও চিকিৎসা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংকট ও বাংলাদেশ: ড. হাসান নাশিদ

তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংকট ও বাংলাদেশ: ড. হাসান নাশিদ
News Banner

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা অধ্যয়নে ‘ক্ষুদ্র রাষ্ট্র’ প্রত্যয়টি দীর্ঘকাল ধরে একটি আপেক্ষিক ও বিতর্কিত বিষয়। প্রথাগত রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে মূলত ভৌগোলিক আয়তন বা জনসংখ্যার মতো কিছু স্থূল সূচকের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হতো। তবে এই সংখ্যাতাত্ত্বিক সংজ্ঞা প্রায়শই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি রাষ্ট্র বিপুল জনসংখ্যার অধিকারী হলেও তার অর্থনৈতিক ভিত্তি যদি দুর্বল এবং প্রযুক্তিগত স্তর অনুন্নত হয়, তবে বৈশ্বিক ক্ষমতা-কাঠামোয় তার অবস্থান একটি দুর্বল রাষ্ট্রের মতোই অবদমিত থাকে।

এই তাত্ত্বিক অসম্পূর্ণতা দূর করে ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘The Security of Small States in the Third World’ নামক যুগান্তকারী মনোগ্রাফে বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের একটি নতুন ও বাস্তবসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেন। তিনি কেবল আয়তন বা জনসংখ্যার সনাতন ধারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত ‘যুদ্ধ সক্ষমতা’ (War Capability)-কে ক্ষুদ্রত্ব ও বৃহৎত্বের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই অবস্থান নির্ধারণের জন্য তিনি দুটি মৌলিক সূচক ব্যবহার করেন: স্থূল জাতীয় উৎপাদন (GNP) এবং বার্ষিক সামরিক বাজেট । মনিরুজ্জামানের এই তুলনামূলক বিশ্লেষণ পদ্ধতি অনুযায়ী, যে রাষ্ট্রের যুদ্ধ সক্ষমতা নিজের অঞ্চলের ‘আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তি’-র তুলনায় একেবারে প্রান্তিক স্তরে অবস্থান করে, তাকেই ‘ক্ষুদ্র রাষ্ট্র’ হিসেবে গণ্য করা উচিত।

এই তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্কটি যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করি, তবে দেশের প্রকৃত ভূ-রাজনৈতিক চরিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ জনসংখ্যাগত দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্র (৮ম) হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার এক-কেন্দ্রিক বা ‘ভারত-কেন্দ্রিক’ অসম শক্তি-কাঠামোয় নিখুঁতভাবে একটি ‘ক্ষুদ্র রাষ্ট্র’ এবং ভূ-কৌশলগতভাবে একটি সংবেদনশীল ‘রিম স্টেট’ (Rim State) বা প্রান্তিক রাষ্ট্র। স্থলসীমান্তের প্রায় ৯৪ শতাংশ ভারতের সাথে ভাগ করে নেওয়া এবং তিন দিক থেকে পরিবেষ্টিত এই ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘কৌশলগত অবরুদ্ধতা’ হিসেবে পরিচিত। ভারতের সাথে এই বিশাল ক্ষমতার ব্যবধান এবং ভৌগোলিক নির্ভরতা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা চিন্তাকে একটি স্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তব সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত করে রেখেছে।

অধ্যাপক মনিরুজ্জামাননের মতে, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো তাদের এই প্রান্তিক বা ‘রিম স্টেট’গুলোকে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব বলয়ে (Sphere of Influence) আবদ্ধ রাখতে চায়, যাতে এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো কখনো কোনো প্রতিপক্ষ পরাশক্তির সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে। এই তাত্ত্বিক বাধ্যবাধকতার আলোকেই ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত ২৫ বছর মেয়াদী ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও শান্তি চুক্তি’-কে বিশ্লেষণ করা সম্ভব, যার ৮ম ও ৯ম ধারা বাস্তব অর্থে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত পররাষ্ট্রনীতিকে একটি বৃহৎ আঞ্চলিক শক্তির কৌশলগত চাহিদার সাথে বেঁধে ফেলেছিল। ১৯৯৭ সালে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি আর নবায়ন না করা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় এই ‘রিম স্টেট’ বৃত্তটি ভাঙতে কতটা সচেষ্ট ছিল।

তবে মনিরুজ্জামানের অন্যতম প্রধান ও আশাবাদী তাত্ত্বিক অবদান হলো, তিনি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোকে কেবল বৃহৎ শক্তির করুণার পাত্র হিসেবে দেখেননি। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো তাদের সামরিক শক্তির ঘাটতিকে চমৎকারভাবে পূরণ করতে পারে তাদের ‘কূটনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব’ (Diplomatic Excellence) বা সফট-পাওয়ারের মাধ্যমে। ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য কূটনীতি কোনো বিলাসী অনুষঙ্গ নয়, এটি অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান জাতীয় ঢাল।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত এবং শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির মূল মন্ত্র, "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়", মনিরুজ্জামানের বর্ণিত এই কূটনৈতিক আত্মরক্ষা কৌশলের সাথে হুবহু মিলে যায়। এই নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি দায়িত্বশীল ও শান্তিকামী সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জাতিসংঘে বহুপাক্ষিক কূটনীতির চর্চা এবং বিশেষ করে ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে (UN Peacekeeping) শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ রাষ্ট্রটিকে এক অনন্য আন্তর্জাতিক বৈধতা ও মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা বলয় প্রদান করেছে।

একই সাথে, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সম্পদ ও দক্ষ জনবলের অভাবের কথা বিবেচনা করে মনিরুজ্জামান ‘কৌশলগত ও ঘনীভূত প্রতিনিধিত্ব’ (Strategic and Concentrated Representation)-এর যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ তার ফরেন সার্ভিসের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রধান ক্ষমতা-কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলোতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক মিশন গড়ে তুলে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় বাহ্যিক হুমকি হলো মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবস্থান এবং ভারত-মায়ানমার  সীমান্ত অঞ্চলের সামরিক উস্কানি ও পুশিং। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রথাগত সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ফাঁদে পা না দিয়ে সম্পূর্ণ বহুপাক্ষিক কূটনীতি, পতাকা বৈঠক, আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) আশ্রয় নিয়েছে, যা মনিরুজ্জামান বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক ঢাল ব্যবহারের তত্ত্বেরই বাস্তব প্রতিফলন।

একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, সেখানেও বাংলাদেশ ভারত ও চীনের তীব্র কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঝখানে অবস্থান করছে। একদিকে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এ যোগ দিয়ে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও মেগা অবকাঠামো নির্মাণ, অন্যদিকে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীল থেকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বোঝাপড়া বজায় রাখা, বাংলাদেশের এই চতুর ‘ভারসাম্য রক্ষা নীতি’ (Balancing Strategy) অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ২০২৩ সালে ঘোষিত বাংলাদেশের নিজস্ব ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক’ (IPO) মূলত কোনো সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে কঠোরভাবে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy) বজায় রাখারই এক আধুনিক সংস্করণ।

প্রতিরক্ষা কৌশলের ক্ষেত্রে মনিরুজ্জামান কার্ল ভন ক্লজউইটজের উক্তি থেকে চয়ন করে ‘এ থাউজেন্ড সোর্সেস অব রেজিস্ট্যান্স’ (A Thousand Sources of Resistance) বা প্রতিরোধের এক হাজারটি উৎসের রূপরেখা দিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য শত্রুকে সম্পূর্ণ পরাজিত করা নয়, বরং শত্রুর জন্য আক্রমণের ব্যয় (Cost of Aggression) সর্বোচ্চ করা। বাংলাদেশের নদীমাতৃক ভূগোল, পলিমাটি ও কাদাময় সমতল ভূমি এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘গেরিলা জনযুদ্ধ’-এর ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে আমাদের সামরিক বাহিনী যে ‘ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা’ (Three-Dimensional Defence) ও অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল (Asymmetric Warfare) গ্রহণ করেছে, তা এই প্রতিরোধ তত্ত্বেরই বাস্তব রূপ।

তবে এই সমস্ত আলোচনার বাইরে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান নিরাপত্তা চিন্তার সবচেয়ে দূরদর্শী ও কালজয়ী দিকটি হলো, তিনি নিরাপত্তাকে কেবল কোনো সংকীর্ণ সামরিক বা বাহ্যিক উপাদান হিসেবে দেখেননি। তাঁর মতে:

"ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার মহাকৌশলে রাজনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসন হলো এর মূল ভিত্তি (Basic Structure), আর সামরিক প্রস্তুতি বা বাহ্যিক কূটনীতি হলো কেবল এর ওপরের উপরি-কাঠামো (Super-structure)"।

জনগণের মধ্যে যদি রাষ্ট্রের প্রতি গভীর আস্থা, ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক অধিকার না থাকে, তবে কেবল সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। জনগণের মনস্তাত্ত্বিক ঐক্যই হলো একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের আসল ‘অভ্যন্তরীণ দুর্গ’ (Inner Bastion)। ১৯৭১ সালের পাকিস্তান ভাঙন, ১৯৭৯ সালের কম্বোডিয়ার পোল পট শাসনের পতন কিংবা উগান্ডার ইদি আমিনের স্বৈরাচারের পতন প্রমাণ করে যে, অভ্যন্তরীণ দুর্গ দুর্বল হলে, বাহ্যিক প্রতিরক্ষা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

বাংলাদেশ যদি বাহ্যিকভাবে ভারত বা চীনের সাথে চমৎকার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নও করে, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে যদি মৌলিক ভিত্তি দুর্বল থাকে, তবে জাতীয় নিরাপত্তা সর্বদা ভঙ্গুর থাকবে। সুতরাং, দীর্ঘমেয়াদী সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশ বা বঙ্গোপসাগরকে পরাশক্তিদের ‘প্রক্সি থিয়েটার’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না এবং কঠোরভাবে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের অর্থনৈতিক ও আইনি কূটনীতি শক্তিশালী করার জন্য পেশাদার ও বিশেষজ্ঞ কূটনৈতিক ক্যাডার গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, সম্মুখ যুদ্ধের চিন্তা পরিহার করে শত্রুর জন্য আক্রমণের ব্যয় সর্বোচ্চ করার লক্ষ্যে দূরপাল্লার মিসাইল সিস্টেম ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অপ্রতিসম প্রতিরোধমূলক প্রতিরক্ষা কৌশল (Asymmetric Deterrence Doctrine) জোরদার করতে হবে। এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের অভ্যন্তরে সুশাসন, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের ইস্পাতকঠিন মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ও দেশপ্রেমের স্পিরিট তৈরি করতে হবে।

অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান কেবল একজন তাত্ত্বিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অস্তিত্বের একজন দূরদর্শী ইশতেহারকার। তাঁর নির্দেশিত পথ অর্থাৎ অভ্যন্তরীণভাবে সুশাসনভিত্তিক শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং বাহ্যিকভাবে বিচক্ষণ ও ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীন কূটনীতি অনুসরণ করেই বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীর এই উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক সমুদ্রে নিজের সার্বভৌমত্বের পতাকা সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবে।

 

লেখক: পিএইচডি রিসার্চ ফেলো,আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া, মালয়েশিয়া।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 42 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 48 টি

মন্তব্য করুন