ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি ও সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পাঁচটি কন্টেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক চালু করা হয়েছে। এসব ট্রাকের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
রোববার সকালে রাজধানীর গাবতলীর প্রস্তাবিত কাঁচাবাজার এলাকায় ডিএনসিসির পরিবহন ডিপোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন ট্রাকগুলোর উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। উদ্বোধনের পর তিনি নিজেই একটি ট্রাক চালিয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং এসটিএসের মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঁচটি কন্টেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে কম সময়ে বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগামীতে আরও ১০টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যুক্ত করা হবে। নতুন ভারী যানগুলো যুক্ত হওয়ায় বর্জ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং নগরবাসীকে আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ১৮০ থেকে ২০০টি গাড়ির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে এবং দ্রুততম সময়ে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিত করতে ডিএনসিসি কাজ করছে।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির পরও বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে না। চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জরিমানাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব হাসান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরুল কায়েসসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন