শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির দেখা মিললেও কমছে না গরমের দাপট। এক দিনের বিরতির পর আবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ঢাকা ও দেশের আরও ১৭টি জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। তীব্র গরমে দিনের বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যায়। প্রয়োজন ছাড়া অনেকে ঘর থেকে বের হননি। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রিকশাচালক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিকসহ খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে ওই এলাকায় তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সোমবার তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়া অন্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, পাবনার ঈশ্বরদী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের নিকলী, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, খুলনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও ফেনী।
এদিন টাঙ্গাইলে ৩৬ দশমিক ৮, ফরিদপুরে ৩৭, গোপালগঞ্জে ৩৬ দশমিক ২, রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৫, ময়মনসিংহে ৩৬ দশমিক ৪, খুলনায় ৩৭ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
বারবার ফিরছে তাপপ্রবাহ
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এর আগেও দুই দফায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দেশের ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। পরদিন এর বিস্তৃতি কমে ১১ জেলায় নেমে আসে। এরপর দুই দিনের বিরতি শেষে শনিবার আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়।
রোববার বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়ায় গরমের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানেই সোমবার ফের বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহ ফিরে আসে।
বুধবার- বৃহস্পতিবার বাড়তে পারে বৃষ্টি
তবে চলমান এই গরম দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি কমে আসতে পারে।
এদিকে উত্তর আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী বুধবার বা বৃহস্পতিবার থেকে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।
ফলে টানা গরমে অতিষ্ঠ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এখন স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও বিস্তৃতি কমে আসবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন