ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি থেকে মানুষকে সচেতন করতে শেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও র্যালি। ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করি, নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখি’—এই প্রতিপাদ্যে সামাজিক সংগঠন জনউদ্যোগ, শেরপুর জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) ও বাংলাদেশ স্কাউটস, শেরপুর জেলা রোভার।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি কবি রফিক মজিদ এবং শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম।
উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক রঘুনাথ বাজার বাসস্ট্যান্ড হয়ে চকবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি ও জেলা রোভার স্কাউটের সদস্যরা অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল সচেতনতামূলক ব্যানার ও লিফলেট। পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব লিফলেট বিতরণ করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে। এতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
ক্যাম্পেইনে বিতরণ করা লিফলেটে ডেঙ্গুর বিভিন্ন লক্ষণ সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ও জয়েন্টে ব্যথা, ত্বকে র্যাশ, বমি ভাব ও অরুচি। পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা নাক-মাড়ি দিয়ে রক্তপাতের মতো বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, শরীর ঢেকে রাখা পোশাক পরা এবং দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার বিকল্প নেই। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও তরুণ স্কাউটদের সম্মিলিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম একটি সুস্থ ও মশামুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরে একটি পরিবেশবান্দব বৃক্ষ রোপণ করা হয়।
মন্তব্য করুন