Advertisement
সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
এল ক্লাসিকোয় রোনালদো-বেনজেমাকে ছাড়িয়ে এমবাপ্পে শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর পুত্রবধূর মৃত্যু শেরপুরে মনির খানের কনসার্ট বুধবার, গান গাইবেন পৌরপার্কে শেরপুরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিধবা আকলিমাকে ঘর উপহার দিলেন ডিসি শেরপুরে কুঠুরাকান্দায় এলাকাবাসীর সঙ্গে এমপি রাশেদের মতবিনিময় শেরপুরে ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা শেরপুরে রাজস্ব সভা, ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তাগিদ ডেঙ্গু প্রতিরোধে গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান চান বিজ্ঞানমন্ত্রী নালিতাবাড়ীতে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করলেন সেলুন ব্যবসায়ী ফায়ার সার্ভিসের শৃঙ্খলা ও সেবার মান বজায় রাখার আহ্বান: মহাপরিচালক

পানামায় যেভাবে ছড়িয়েছে ইসলাম

পানামায় যেভাবে ছড়িয়েছে ইসলাম
News Banner

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় মুসলমানরা সংখ্যায় সংখ্যালঘু। দেশটির অধিকাংশ মানুষ খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ইসলামচর্চা চলছে। আফ্রিকা থেকে আসা মুসলমান, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ধর্মান্তরিতদের হাত ধরে দেশটিতে ইসলাম বিস্তার লাভ করে। মসজিদ, ইসলামি কেন্দ্র ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সংগঠিত হয় মুসলিম সম্প্রদায়।

আফ্রিকা থেকে পানামায় ইসলামের আগমন
পানামায় ইসলামের প্রাথমিক উপস্থিতির ইতিহাস প্রায় পাঁচ শতাব্দী পুরোনো। প্রকাশিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৫৫২ সালের দিকে আফ্রিকা থেকে একদল মানুষকে দাস হিসেবে পানামায় নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে মান্দিঙ্কা জনগোষ্ঠীর মুসলমানও ছিলেন। স্বর্ণের খনিতে কাজ করানোর জন্য তাঁদের আনা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।

প্রায় ৫০০ জনের এই দলের নেতা ছিলেন বায়ানো। দাসত্বের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় ছিল। পানামায় মুসলমানদের প্রাথমিক উপস্থিতির ইতিহাসে এই দলটির আগমনকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মুসলিম ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে সংগঠিত ইসলামচর্চা

পানামায় ইসলামচর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আসা মুসলিম ব্যবসায়ীরা। ১৯২৯ সালে ভারতের বোম্বে থেকে একদল মুসলিম ব্যবসায়ী পানামায় আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ ইবরাহিম, সলোমন বাকুসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।

তাঁরা ‘সুন্নি ইন্দো-পাকিস্তান মুসলিম সোসাইটি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। কোলন শহরে বসবাসকারী এসব মুসলমান নিজেদের মধ্যে ধর্মীয় যোগাযোগ বজায় রাখতেন এবং একসঙ্গে নামাজ আদায় করতেন।

১৯২৯ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রচেষ্টা চালানো হয়। ব্যবসায়ী আলি আকবর এ জন্য জমি দান করেন। পানামা সিটিতে নির্মিত প্রথম দিককার মসজিদগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়। তবে মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সেখানে ঈদের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি নতুন মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

ভাড়া বাড়িতে নামাজ, চলত ধর্মীয় শিক্ষাও
বিশ শতকের প্রথমার্ধে পানামায় মুসলমানদের জন্য পর্যাপ্ত মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল না। ফলে অনেককে ভাড়া বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি জায়গায় নামাজ আদায় করতে হতো।

কোলন শহরে বাসিল উসকান নামের এক ব্যক্তি মুসলমানদের একটি দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তিনি একটি জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে নামাজ ও সভার আয়োজন করেন। ১৯৩২ সালে পানামা সিটির কালিডোনিয়া এলাকার সান মিগেলেও মুসলমানদের একটি দল নামাজ ও ধর্মীয় সভা আয়োজন শুরু করে।

এ সময় নতুন মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়। ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিবাসীদের ইসলাম সম্পর্কে শেখাতে কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ ব্যবহার করা হতো। এসব উদ্যোগ মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে।

কবরস্থান ও ইসলামি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানামার মুসলিম সম্প্রদায় স্থায়ী ধর্মীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়। ১৯৬৩ সালে মুসলমানরা জারদান ডি পাজ এলাকায় কবরস্থানের জন্য জমি কেনেন। পরে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলমানেরা ১৯৯১ সালে আরবাইজান এলাকায় আরেকটি সম্পত্তি কেনেন, যা কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়।

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে পানামার স্থানীয় মুসলমানেরা ‘পানামা অ্যাসোসিয়েশন অব ইসলাম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের কার্যক্রম শুরু করেন। আবদুল ওয়াহাব জনসন ও সুলেমান জনসনের নেতৃত্বে পানামা সিটি ও কোলন শহরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ইসলামি পণ্ডিত ড. আবদুল খাবির মুহাম্মদের সঙ্গে পরিচয়ের পর দেশটির মুসলমানদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন ও জানার আগ্রহ বাড়ে বলে প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুদের ইসলামি শিক্ষা ও মসজিদ নির্মাণ
মুসলিম সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানেরা একটি কক্ষে তাঁদের সন্তানদের ইসলামি শিক্ষা দিতেন। ১৯৭৮ সালে পানামা সিটির পেরেজিল এলাকায় একটি জায়গা নিয়ে শিশুদের শিক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হয়।

১৯৮২ সালে কোলন শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘এল সেন্ট্রো কালচারাল ইসলামিকো দে কোলন’ নামে একটি ইসলামি কেন্দ্র ও মসজিদ। লিবিয়াভিত্তিক ইসলামিক কল সোসাইটি এবং স্থানীয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী সলোমন ভিখুর যৌথ উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়।

কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর ড. আবদুল খাবির মুহাম্মদ সন্ধ্যায় এবং প্রতি রোববার আগ্রহীদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নবমুসলিম হামজা বিয়ার্ড এ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

সংখ্যালঘু হয়েও এগিয়েছে ইসলামচর্চা
পানামায় ইসলাম বিস্তারের ইতিহাস অভিবাসন, ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংগঠনিক উদ্যোগের ধারাবাহিক ইতিহাস। আফ্রিকা থেকে আসা মুসলমানদের প্রাথমিক উপস্থিতি, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ এবং স্থানীয় মুসলমানদের প্রচেষ্টায় দেশটিতে ধীরে ধীরে ইসলামচর্চার পরিসর তৈরি হয়েছে।

সংখ্যায় সংখ্যালঘু হলেও পানামার মুসলমানেরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখতে মসজিদ, ইসলামি কেন্দ্র, কবরস্থান ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম গড়ে তুলেছেন। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাঁদের এই দীর্ঘ পথচলা দেশটিতে ইসলামের বিকাশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

লেখক: ড. ইকবাল কবীর মোহন, শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সিনিয়র ইসলামী ব্যাংকার।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 17 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 514 টি

মন্তব্য করুন