ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি অপতথ্য ও অসত্য তথ্যের বিস্তার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারও ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
সোমবার আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে তথ্য কমিশনের হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য—‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ; অপতথ্যরোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য জানার অধিকার সবার আছে। তবে সেই তথ্য হতে হবে সঠিক, অপতথ্য কিংবা অসত্য তথ্য নয়।’
তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যের অভাব নেই; বরং সঠিক তথ্যের পাশাপাশি অপতথ্য ও অসত্য তথ্যের বিস্তার এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীলভাবে তা পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ভুল ও অসত্য তথ্য শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তাই গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিবিদসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো তথ্য শেয়ার, লাইক বা কমেন্ট করার আগে সেটির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক সময় মানুষ নিজের অজান্তেই যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়িয়ে দেন। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঠিকভাবে তথ্য যাচাই করে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদেরও তথ্য ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে।
এআইয়ের অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তাদের হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করা হচ্ছে। এ ধরনের অপসংস্কৃতি থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, অপতথ্যের কারণে ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি এখন থেকেই সতর্ক না হই এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তাহলে অপতথ্য, অসত্য তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে পৃথিবী হুমকির মুখে পড়তে পারে।’
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার মোকাবিলায় কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুমন রহমান। অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত হন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা, অপতথ্য প্রতিরোধ, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য কমিশনের সচিব মো. শাহ আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন