সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও অসত্য তথ্যের বিস্তার এখন একটি ‘অশুভ সংকেত’। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তরুণদের সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর নটরডেম কলেজে আয়োজিত ‘২য় ন্যাশনাল মিডিয়া কার্নিভাল ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সব সময়ই দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম বিষয়ে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।
নটরডেম কলেজে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে আগে এ প্রতিষ্ঠানে এসেছেন তিনি। এই ক্যাম্পাসে এসে তাঁর পুরোনো দিনের অনেক স্মৃতি ফিরে এসেছে।
এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিত মিডিয়া কার্নিভালের আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তরুণদের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনে সরকারের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, সিএসসি; ফাদার অ্যান্টনি গোমেজ রোজারিও, সিএসসি; নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের মডারেটর শাপলা বনিক; ‘দ্য বাংলাদেশ ডায়লগ’-এর চেয়ারম্যান রুবায়েত মান্নান রাফি; এনসিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ডিভিশন আনিসুর রহমান মজুমদার; চায়না এডুকেশন বাংলাদেশের সিইও সাজ্জাদ হোসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিমরান রহমান।
উল্লেখ্য, নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের উদ্যোগে ২ ও ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় ‘২য় ন্যাশনাল মিডিয়া কার্নিভাল ২০২৬’। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। গণমাধ্যম, যোগাযোগ, গবেষণা ও সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ আয়োজন ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন