আসামের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বাংলাদেশে মিথানল রপ্তানির প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড (এপিএল)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিকুল ডেকার দাবি, ভারতের স্বাধীনতার পর ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের এটি প্রথম ঘটনা।
মিথানল পরিবহনের জন্য আসাম সরকারের অভ্যন্তরীণ জলপরিবহন বিভাগের দুটি কার্গো জাহাজ ইজারা নিয়েছে এপিএল। এরই মধ্যে ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের প্রথম জাহাজটি ডিব্রুগড়ের বগিবিল ঘাটে পৌঁছেছে। তবে বাংলাদেশে রওনা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিথানল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে পড়ে ছিল। পরে সেগুলো গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে মেরামত করা হয়।
এপিএল চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ব্রিটিশরা ভারত ছাড়ার পর স্বাধীন ভারতে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে ডিব্রুগড় থেকে জলপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মিথানল রপ্তানির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর ডিব্রুগড় থেকে এই আন্তর্জাতিক জলপথ বাণিজ্যের পুনরারম্ভ হতে যাচ্ছে।
এপিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিব্রুগড়ের বগিবিল থেকে ব্রহ্মপুত্রের জাতীয় জলপথ-২ (NW-2) ব্যবহার করে মিথানল বাংলাদেশে পাঠানো হবে। দুই জাহাজে ২৭টি করে কনটেইনার থাকবে। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন মিথানল পরিবহনের কথা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুই জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা হবে।
ভারতের ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইডব্লিউএআই) জানিয়েছে, আসাম পেট্রো-কেমিক্যালসের সঙ্গে সংস্থাটির সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মিথানল ও ফরমালিন জলপথে পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগিবিল, পান্ডু ও জোগিঘোপা ঘাট এ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইডব্লিউএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদ জাতীয় জলপথ-২ হিসেবে চিহ্নিত। এই জলপথ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটের সঙ্গে এর সংযোগ থাকায় পণ্য পরিবহনের পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এপিএল চেয়ারম্যানের মতে, ব্রহ্মপুত্র ব্যবহার করে মিথানল পরিবহন দুই দেশের মধ্যে তুলনামূলক কম ব্যয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে এই জলপথে আরও শিল্পপণ্য পরিবহনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
এপিএল আসাম সরকারের একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র আসামের নামরুপে। প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি মিথানল ও ফরমালিন উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নামরুপে তাদের ৫০০ টন দৈনিক উৎপাদনক্ষমতার একটি মিথানল প্ল্যান্ট রয়েছে।
এদিকে, বগিবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত জলপথের দূরত্ব প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর হিসাবে, এই পথ পাড়ি দিতে প্রায় সাত দিন সময় লাগতে পারে।
মিথানল পরিবহনের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে আসামের শিল্পপণ্য কম খরচে বাংলাদেশে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই নৌপথ ব্যবহারের সুযোগ বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন