Advertisement
বৃহস্পতিবার, 01 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত শেরপুরের শায়রি শেরপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় শেরপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকি, স্মৃতিতে নবান্নের সেই দিন শিশুদের ‘নোবেল’ পুরস্কারে মনোনীত শেরপুরের শিশু সাংবাদিক জয়া শেরপুরে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সমাপনী: নিষ্ঠা-সততায় জনসেবার আহ্বান জেলা প্রশাসকের নকলায় কৃষক কার্ড ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রকল্পের অপচয় ঠেকাতে এআই ব্যবহারের তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর শেরপুরে ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হজযাত্রীদের কর-চার্জ কমানো ও ফ্লাইট স্লট অনুমোদনে সৌদির সহযোগিতা চাইলেন বিমানমন্ত্রী প্রত্যেক ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের লক্ষ্য: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রকল্পের অপচয় ঠেকাতে এআই ব্যবহারের তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

প্রকল্পের অপচয় ঠেকাতে এআই ব্যবহারের তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর
News Banner

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বন্ধ এবং অর্থের অপচয় রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে এর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের মিল রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে যাচাই করতে হবে। এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করা গেলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এনএসডি মূলত একটি নিয়ন্ত্রক বিষয়, আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। এ দুটি বিষয়কে একইভাবে বিবেচনা করা যাবে না। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাব যাচাইয়ে এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রযুক্তির সহায়তায় অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় একই উদ্দেশ্যে প্রকল্প চলমান রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব। এতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয় বাড়বে, সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্পে ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং কমানো গেলে এডিপি বাস্তবায়নে সৃষ্ট অদক্ষতার বড় একটি অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই দেশীয় শিল্পকে কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সংযুক্তি তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এ বাস্তবতায় দেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

উৎপাদনশীলতাকে কেবল শিল্পকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় সংস্কৃতিতে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কম শ্রম ও সম্পদ ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ টেনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প প্রমাণ করেছে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। তবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে শুধু দক্ষতার ঘাটতিই নয়, নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পের অভাবও বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন শিল্পমন্ত্রী।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলী।

এ ছাড়া আলোচনায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 8 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 256 টি

মন্তব্য করুন