Advertisement
শুক্রবার, 02 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

আজ পথশিশু দিবস, অধরা নিরাপদ শৈশব

আজ পথশিশু দিবস, অধরা নিরাপদ শৈশব
News Banner

যে বয়সে বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সেই জীবিকার তাগিদে রাস্তায় ছুটছে তারা। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে পানির বোতল, কেউ আবার ব্যস্ত নানা পণ্য বিক্রিতে। দিন শেষে কারও ঠিকানা ফুটপাত, কারও রেলস্টেশন কিংবা বাস টার্মিনাল। শৈশবের আনন্দ, নিরাপদ আশ্রয় আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সবকিছুই যেন তাদের কাছে অধরা।

আজ ২ অক্টোবর, জাতীয় পথশিশু দিবস। পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের প্রতি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে দেশের হাজারো পথশিশুর অনিশ্চিত জীবন, বঞ্চনা ও নিরাপদ শৈশবের আকাঙ্ক্ষা।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের সড়ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে দেখা মেলে এসব শিশুর। দারিদ্র্য, পারিবারিক ভাঙন, অভিভাবকহীনতা, নির্যাতন কিংবা নানা সামাজিক সংকটে অনেক শিশু ঘরছাড়া হয়। কেউ পরিবারের সঙ্গে রাস্তায় থাকে, কেউ আবার জীবিকার সন্ধানে একাই ঘুরে বেড়ায়।

পথশিশুদের বড় একটি অংশ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে। জীবিকার প্রয়োজনে তারা রাস্তায় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি, ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা নানা ধরনের শ্রমে যুক্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ও শোষণমূলক কাজের শিকার হতে হয়। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ।

শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এসব শিশুর জীবনে বড় সংকট। অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসের কারণে তারা নানা রোগ, সহিংসতা, নির্যাতন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে রাতে নিরাপদে ঘুমানোর জায়গা না থাকায় তাদের জীবন হয়ে ওঠে আরও অনিশ্চিত।

বাংলাদেশে পথশিশুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও অনুমান থাকলেও নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্যের অভাব রয়েছে। ফলে তাদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে পথশিশুদের জন্য কাজ করছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। এর মধ্যে লিডো (লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) অন্যতম। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে।

সংস্থাটির অন্যতম উদ্যোগ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা শেল্টার হোম। এসব কেন্দ্রে শিশুদের থাকা-খাওয়া, পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে শিশুদের সরিয়ে এনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে শুধু বেসরকারি উদ্যোগ দিয়ে পথশিশুদের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, সামাজিক সচেতনতা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং শিশুদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ।

জাতীয় পথশিশু দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনের দিন নয়, বরং প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের দিন। পথশিশুদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, পুষ্টি ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের জীবনেও ফিরতে পারে স্বাভাবিক শৈশবের আনন্দ। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় কোনো শিশুই যেন পিছিয়ে না থাকে, সেই প্রত্যাশাই আজকের দিনে।

 

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 57 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 266 টি

মন্তব্য করুন