মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ইতালির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে মৎস্য ও মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, সামুদ্রিক মৎস্য এবং ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি এবং ইতালির কৃষি, খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও বন মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি অব স্টেট (প্রতিমন্ত্রী) লুইজি দে'এরামো (Luigi D'Eramo)-এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের পারস্পরিক স্বার্থ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মতো তারাও সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই, জলবায়ু-সহনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্য ও মৎস্য চাষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে ইতালির উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব।
বৈঠকে মৎস্য, ব্লু ইকোনমি ও প্রাণিসম্পদ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। এ লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ. টি. এম. রকিবুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, ইকনমিক কাউন্সিলর মো. আল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন