Advertisement
মঙ্গলবার, 22 সেপ্টেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
News Banner

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি নিউইয়র্কে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে নিউইয়র্কের হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে নেওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হন। তাঁরা ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকাতেও এ উপলক্ষে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

ব্যস্ত কর্মসূচি

২৬ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর জাতিসংঘ সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। এদিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন।

সফরকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব

২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধে উচ্চপর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সূচি রয়েছে।

সবশেষে ওই দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রয়েছে; তবে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।

অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও গুরুত্ব

২৫ সেপ্টেম্বর জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্প, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাত ১১টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ

তারেক রহমানের এবারের জাতিসংঘ সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন এবং পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি অধিবেশনে অংশ নেন।

এবার ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’। এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 8 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 155 টি

মন্তব্য করুন