Advertisement
মঙ্গলবার, 22 সেপ্টেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির মামলা, ১৫ ডিলার কারাগারে

শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির মামলা, ১৫ ডিলার কারাগারে
News Banner

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সদর উপজেলার ১৫ সার ডিলারকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হাজির হওয়া আরও একজন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৬ আসামি হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির একজনকে জামিন দেন এবং উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাকি ১৫ আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলহাজতে যাওয়া আসামিরা হলেন—সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া ও মো. বাদশা মিয়া।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শেরপুর শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারায় বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।

পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে সরকারি বরাদ্দের সার বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার, যার মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা; ৮২১ টন ডিএপি সার, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা; ১৩৪ টন টিএসপি সার, যার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সারসহ মোট প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।

মামলার ২০ আসামিই বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নেন। মঙ্গলবার তাদের মধ্যে ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

আদালত একজনের জামিনের মেয়াদ বহাল থাকায় তাকে জামিন দেন। অপর ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল মান্নান বলেন, উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৫ আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে বলা হয়েছিল। তারা আদালতে হাজির হলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 23 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 155 টি

মন্তব্য করুন