Advertisement
সোমবার, 02 নভেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
নকলায় দারুল আরকাম ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার যাত্রা শুরু ঢাকায় হত্যা, শেরপুরে ড্রামে মরদেহ; রহস্য উদ্‌ঘাটন করল পিবিআই বায়ুদূষণ মোকাবিলায় গবেষণা ও নীতির সমন্বয় চান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের বিনিয়োগ টানতে ঢাকায় বসছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট সরকারি দপ্তরের কর্মসম্পাদন মূল্যায়নে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনা শেরপুরে যুব দিবসে যুবকদের মধ্যে ঋণ ও সনদ বিতরণ অভিনব কৌশলে পাচার, জব্দ ১২ লাখ টাকার ডিসপ্লে শেরপুরে প্লেসের সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পুরস্কৃত কৃতীরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ

ঢাকায় হত্যা, শেরপুরে ড্রামে মরদেহ; রহস্য উদ্‌ঘাটন করল পিবিআই

ঢাকায় হত্যা, শেরপুরে ড্রামে মরদেহ; রহস্য উদ্‌ঘাটন করল পিবিআই
News Banner

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ব্রিজের নিচে প্লাস্টিকের ড্রামে পাওয়া নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, আর্থিক লেনদেন ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ঢাকায় ঝিনুক আক্তার (২৬) নামের ওই নারীকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে তাঁর মরদেহ ড্রামে ভরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাঁদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শেরপুর শহরের গৃদানারায়ণপুর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের মাহবুবা আক্তার ফাতেমা (৪৪), পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রামের নুর ইসলাম বাবু (৪৪), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঘমারা শিশুয়া গ্রামের সজল (৪৪) এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা গ্রামের নুর মোহাম্মদ গোসা (৪৪)।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া এলাকার কুড়েমনি খালের একটি ব্রিজের নিচে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ঝিনুক আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার শাকিল মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় ঝিনুকের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে তাঁর স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরে তদন্তের দায়িত্ব পান সংস্থাটির পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২১ অক্টোবর ঝিনুককে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার আব্দুস সাত্তারের ভাড়া বাসার একটি কক্ষে নিয়ে যান ফাতেমাসহ চারজন।

সেখানে আর্থিক লেনদেন ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফাতেমা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝিনুককে আঘাত করেন। পরে অন্যরা তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে দাবি পিবিআইয়ের।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়িতে করে ঢাকার দক্ষিণখান থেকে শ্রীবরদীর কুড়িকাহনীয়া এলাকায় নেওয়া হয়। পরে ব্রিজের নিচে ড্রামটি ফেলে রেখে যায় আসামিরা।

পিবিআই জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নুর ইসলাম বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ঘটনাটি ছিল ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। আর্থিক লেনদেন ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পিবিআই সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছেন।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 133 বার

স্টাফ রিপোর্টার

অভিজ্ঞ সাংবাদিক, Sherpur Barta

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 59 টি

মন্তব্য করুন