Advertisement
সোমবার, 02 নভেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
নালিতাবাড়ীতে পুষ্টি সচেতনতায় বারটানের স্কুল ক্যাম্পেইন প্রযুক্তির আড়ালে ডিজিটাল প্রতারণা, বাড়ছে উদ্বেগ ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পেল শুধু যমজ দুই বোন খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি উন্নয়নে ডব্লিউএফপির সহায়তা চান খাদ্যমন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রক্তদানে ভয় নয়, সচেতনতা বাড়াতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নকলায় দারুল আরকাম ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার যাত্রা শুরু ঢাকায় হত্যা, শেরপুরে ড্রামে মরদেহ; রহস্য উদ্‌ঘাটন করল পিবিআই বায়ুদূষণ মোকাবিলায় গবেষণা ও নীতির সমন্বয় চান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের বিনিয়োগ টানতে ঢাকায় বসছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট

১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পেল শুধু যমজ দুই বোন

১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পেল শুধু যমজ দুই বোন
News Banner

বাবার বেকারত্ব, সংসারে অভাব-অনটন আর নানা সীমাবদ্ধতা। সব বাধা পেরিয়ে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছে যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দুজনই অর্জন করেছে জিপিএ-৫। ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী।

রহিমা ও রাবেয়া উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী। এ বছর কলেজটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুজন, আর সেই দুজনই যমজ বোন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রহিমা ও রাবেয়াই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী।

তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে রহিমা ও রাবেয়া। তাদের বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু বেকার থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে চলছে পরিবারটি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে মা-বাবাকে। তবে অভাব-অনটন তাদের পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

দুই বোনের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল তাদের একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি ও ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি উপবৃত্তিও পেয়েছে তারা।

মেয়েদের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেকার। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। শিক্ষকদের সহযোগিতা ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তা না পেলে হয়তো মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।’

নিজেদের পরিশ্রমের কথা জানিয়ে রহিমা ও রাবেয়া বলেন, ‘বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়ার সময়টুকু বাদে প্রায় সব সময়ই পড়াশোনা করতাম। ঘুমও হতো খুব সীমিত। এখন আমাদের স্বপ্ন, ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা।’

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মানবিক শাখা থেকে এই যমজ দুই বোনই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ সাফল্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। দুই বোনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

আর্থিক সংকটের মধ্যেও দুই বোনের এমন সাফল্যে গর্বিত এলাকাবাসী। তাদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রতিকূলতা জয় করে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা স্থানীয়দের।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 2 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 555 টি

মন্তব্য করুন