শেরপুরের নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়ণখোলা এলাকায় একদল উদ্যমী তরুণের উদ্যোগে নিয়মিত বসছে ব্যতিক্রমী সাপ্তাহিক বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা। গল্প, আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে জ্ঞানচর্চার এই আয়োজন ইতোমধ্যে স্থানীয় শিক্ষিত সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এমনই একটি সাপ্তাহিক আড্ডা। এবারের আলোচনার প্রতিপাদ্য ছিল—‘মুক্তিযুদ্ধ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে চরঅষ্টধরের ভূমিকা’।
আলোচনায় স্থানীয় ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ তৈরিতে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা এবং এসব ক্ষেত্রে উত্তরণের সম্ভাব্য করণীয় নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
শেরপুর জজকোর্টের স্টাফ ফখরুল আমিন সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়ণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম জাকারিয়া। এ সময় বক্তব্য দেন প্রভাষক তারেক আহসান ও প্রভাষক আরিফ আল হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান, ব্যাংক কর্মকর্তা রাকিব রনি এবং আমন্ত্রিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারী। প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে উপস্থিত তরুণরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং আলোচকদের কাছ থেকে নতুন নতুন তথ্য জানার সুযোগ পান।
আয়োজকরা জানান, প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনজন শিক্ষক, গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংবা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এ আড্ডায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁরা নির্ধারিত বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান তুলে ধরেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন করেন এবং মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পান।
আয়োজকদের মতে, তরুণদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। নিয়মিত এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
তাঁরা আশা করছেন, জ্ঞানপিপাসু তরুণদের এই ছোট উদ্যোগ ভবিষ্যতে উপজেলা ও জেলা পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় জ্ঞানচর্চার একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে। তাঁদের ভাষায়, ‘ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।’
মন্তব্য করুন