Advertisement
রবিবার, 04 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

রোহিঙ্গা সংকট ও ল্যান্ডমাইন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআইএমএম প্রধানের বৈঠক

রোহিঙ্গা সংকট ও ল্যান্ডমাইন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআইএমএম প্রধানের বৈঠক
News Banner

রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান।

আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে আসায় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চমাত্রায় অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের একটি দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

সংগৃহীত এসব তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিকোলাস কৌমুজিয়ান জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতের ফলে বেসামরিক মানুষের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে বৈঠকে সীমান্তে ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন বিজিবি মহাপরিচালক। তিনি জানান, মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানিতে সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসছে। এতে সীমান্ত এলাকার সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্রও তুলে ধরা হয়।

আইআইএমএমের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি জানানো হয়।

বৈঠকে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্তকরণ, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় তথ্য-প্রমাণ ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 42 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 305 টি

মন্তব্য করুন